বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটি ইউডব্লিউএস লন্ডন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের টাওয়ার ব্রিজে মিলনমেলা

| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
পোস্টটি পড়া হয়েছে :  বার
 ছবি:
ছবি:

কবিরুল ইসলাম  :

বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটি ইউডব্লিউএস লন্ডন ক্যাম্পাসের প্রথম আনন্দভ্রমণে, লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটি, ইউডব্লিউএস লন্ডন ক্যাম্পাসের উদ্যোগে লন্ডনের ঐতিহাসিক টাওয়ার ব্রিজে অনুষ্ঠিত হয়েছে সংগঠনটির প্রথম আনন্দভ্রমণ ও মিলনমেলা। প্রাণবন্ত এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি এবং সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার একটি সুন্দর সূচনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম, নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য এবং সাধারণ সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের বাইরে সবাইকে একত্রিত করে পারস্পরিক পরিচয় ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং একটি শক্তিশালী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সমাজ গড়ে তোলাই ছিল এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আবদুর রহিম; সহসভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ইফজাল আহমেদ ও মিনহাজ খান শাওন; সাধারণ সম্পাদক হেমালয় রাজ পল; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিদিশা, আনিকা ও সোহানা কবির মুমু; সাংস্কৃতিক সম্পাদক জুই তালুকদার; প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক রানা; নির্বাহী সদস্য এমডি আনোয়ার হোসাইন ও সারওয়ার কামালী এবং সাধারণ সদস্য আসাদুর রহমান নবীন।

আয়োজনের শুরুতেই সদস্যরা একসঙ্গে আলোকচিত্র ধারণ করেন। এরপর সভাপতির পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং শুরু হয় পরিচয়পর্ব। পরিচয়পর্বে সদস্যরা নিজেদের পড়াশোনা, কর্মজীবন, লন্ডনে বসবাসের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সভাপতি আবদুর রহিম তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত পড়াশোনা। এরপর জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি অবসর সময়কে সমাজসেবা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড, সংগঠন এবং অন্যান্য ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের শিক্ষাগত উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং সমাজ ও সম্প্রদায়ের উন্নয়নের প্রতিও মনোযোগী হতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে লন্ডনে বসবাসরত কোনো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিজেকে একা, অসহায় বা বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।

সামনে সংগঠনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থাকায় সভাপতি সকল সদস্যকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মিলনায়তন ব্যবহারের অনুমতি এবং আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে পরবর্তী কার্যক্রমগুলো আরও সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

টাওয়ার ব্রিজে মিলনমেলা শেষে সদস্যরা সম্মিলিতভাবে লন্ডনের আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করেন। তারা টাওয়ার অব লন্ডন এবং এর আশপাশের ঐতিহাসিক এলাকা ঘুরে দেখেন। লন্ডনের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও পরিবেশ উপভোগের পাশাপাশি সদস্যরা সেখানে বিভিন্ন স্থানে আলোকচিত্র ধারণ করেন।

পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল হাসি, আনন্দ, গল্প, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আন্তরিকতার পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর অনেক সদস্য একসঙ্গে বসে দীর্ঘ সময় গল্প করার সুযোগ পান। সাংস্কৃতিক সম্পাদক জুই তালুকদারের উপস্থিতিতে গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সন্ধ্যাটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠান শেষে সদস্যদের প্রতিক্রিয়াতেও আয়োজনটির প্রতি তাদের আন্তরিক সন্তুষ্টি প্রকাশ পায়।
সাংস্কৃতিক সম্পাদক জুই তালুকদার বলেন, “অনেক দিন পর খুবই সুন্দর একটা সময় কাটালাম। আমাদের সভাপতিকে ধন্যবাদ।”

নির্বাহী সদস্য সারওয়ার কামালী বলেন, “আজকের আয়োজনটিকে এত বিশেষ করে তোলার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। সবার সঙ্গে দেখা করা, পরিচিত হওয়া এবং সুন্দর কিছু সময় কাটানো সত্যিই অসাধারণ ছিল। আশা করি, এটি একটি সুন্দর সম্প্রদায়ের সূচনা এবং সামনে আরও অনেক এমন মিলনমেলা হবে।”

সহসভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বাড়িতে নিরাপদে পৌঁছেছি। সন্ধ্যাটা সত্যিই অসাধারণ ছিল। সবাই দারুণ করেছেন। এত সুন্দর কিছু মুহূর্ত তৈরি করার জন্য আমাদের সভাপতি এবং অন্যান্য সদস্যদের ধন্যবাদ। আশা করি, এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।”

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহানা কবির মুমু বলেন, “এত সুন্দর, স্বাস্থ্যকর ও ইতিবাচক একটি পরিবেশ তৈরি করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের সবার মাঝে আমি সত্যিই নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যবোধ এবং সুরক্ষিত অনুভব করেছি।”

আনিকা বলেন, “আপনাদের সবার সঙ্গে খুব সুন্দর সময় কাটিয়েছি।”

সহসভাপতি মিনহাজ খান শাওন বলেন, “সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। সুন্দর কিছু সময় আমরা কাটালাম। এভাবে আমরা যদি এই সম্প্রদায়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, তাহলে আমাদের বাঙালি ভাই-বোনেরা কখনো লন্ডনে নিজেদের অসহায় বা একা মনে করবে না।”

বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটির এই প্রথম আনন্দভ্রমণ শুধুমাত্র একটি সামাজিক আয়োজন ছিল না; বরং এটি ছিল পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং একটি শক্তিশালী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সম্প্রদায় গড়ে তোলার প্রত্যয়ের প্রতিফলন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। যারা এবার উপস্থিত হতে পারেননি, তাদের ভবিষ্যতের বিভিন্ন আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।

টাওয়ার ব্রিজের এই আয়োজনটি সংগঠনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক, স্বেচ্ছাসেবামূলক এবং সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আসন্ন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ ভবিষ্যতের সব কার্যক্রমে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটি, ইউডব্লিউএস লন্ডন ক্যাম্পাস একটি বন্ধুত্বপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং বৃহত্তর বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
 

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত