ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের বার্ষিক বনভোজন সম্পন্ন

| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
পোস্টটি পড়া হয়েছে :  বার
গ্রেট ইয়ারমাউথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের বার্ষিক বনভোজনের দৃশ / ছবি:
গ্রেট ইয়ারমাউথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের বার্ষিক বনভোজনের দৃশ / ছবি:

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :

উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে যুক্তরাজ্যের নরফোক উপকূলের মনোরম সমুদ্রতীরবর্তী শহর গ্রেট ইয়ারমাউথে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে (DUAUK)-এর বার্ষিক বনভোজন। সংগঠনের সদস্য, উপদেষ্টা, পরিবার ও অতিথিদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ আয়োজন পরিণত হয় বন্ধুত্ব, স্মৃতিচারণ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আনন্দের মিলনমেলায়।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টায় লন্ডনের রেডব্রিজ স্টেশন থেকে কোচযোগে গ্রেট ইয়ারমাউথের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। এ আয়োজনে মোট ৫৩ জন অংশগ্রহণ করেন।

যাত্রার শুরুতে সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. কামরুল হাসান সবাইকে স্বাগত জানান এবং দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রার সূচনা করেন জাকির হোসেন। পরে সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। যাত্রাপথে নাশতা পরিবেশনের পাশাপাশি গান, কবিতা, কৌতুক ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো কোচ।

প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে গ্রেট ইয়ারমাউথে পৌঁছানোর পর স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এরপর সমুদ্রসৈকতের মনোরম পরিবেশে সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

পুরুষদের জন্য ফিট ব্যালান্স রেস ও বিন ব্যাগ টস, নারীদের জন্য ব্লাইন্ডফোল্ড চ্যালেঞ্জ এবং হেড, শোল্ডার অ্যান্ড টোজ এবং শিশুদের জন্য দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ব্যাপক আনন্দ উপভোগ করেন।

ফিট ব্যালান্স রেসে প্রথম হন দেওয়ান গৌস সুলতান, দ্বিতীয় সৈয়দ হামিদুল হক এবং তৃতীয় সিরাজুল বাছিত চৌধুরী। বিন ব্যাগ টসে প্রথম মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় মারুফ চৌধুরী ও তৃতীয় হন মির্জা আসহাব বেগ।

নারীদের ব্লাইন্ডফোল্ড চ্যালেঞ্জে প্রথম তামান্না সৈয়দা, দ্বিতীয় সুলতানা আক্তার ও তৃতীয় রিভা রেইনা। হেড, শোল্ডার অ্যান্ড টোজ প্রতিযোগিতায় প্রথম আসমা আক্তার, দ্বিতীয় বদরুন নাহার এবং তৃতীয় খাদিজা আহমেদ বন্যা।

শিশুদের দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার লাভ করে রাফিডা জান্নাত, দ্বিতীয় শ্রেয়শী এবং তৃতীয় তাসকিন সৈয়দা।

বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপদেষ্টা ও সিনিয়র সদস্যরা।

বিশেষ পুরস্কার : খেলাধুলা ও বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজন ও পরিচালনায় মূল্যবান অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সৈয়দ জাফরের সৌজন্যে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. কামরুল হাসান এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক এরিনা সিদ্দিকীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী।

সমুদ্রসৈকতে গিয়ে সাঁতার ও জলকেলিতেও অংশ নেন অনেকে। প্রায় এক ঘণ্টা সমুদ্রের পানিতে আনন্দ করার পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

পরে সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগঠনের সদস্য ও তাঁদের পরিবারের শিশু-কিশোররা গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। শিশু শিল্পী শ্রেয়শী, তাসকিন সৈয়দা, রওশন জাহান সিমি, তামান্না সৈয়দা, এরিনা সিদ্দিকী, ইসমাইল হোসেন, মারুফ চৌধুরী ও খালেদা জামান পূর্ণি এতে অংশ নেন।

আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংগঠনের উপদেষ্টা আবু মুসা হাসানের তৈরি আচারি ঝাল মুড়ি-চানাচুর। সমুদ্রের পাড়ে বসে সবাই মিলে এ খাবার উপভোগ করেন।

বার্ষিক বনভোজনটি ১২ সদস্যের একটি সাবকমিটির মাধ্যমে আয়োজন করা হয়। কমিটির সমন্বয় করেন সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. কামরুল হাসান এবং সার্বিক নেতৃত্ব দেন সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী। আয়োজনে সহযোগিতা করেন সৈয়দ জাফর, ইসমাইল হোসেন ও সৈয়দ হামিদুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজকরা জানান, এবারের বনভোজন শুধু একটি আনন্দ আয়োজন ছিল না; এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের পুরোনো বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি এবং প্রিয় Alma Mater-এর সঙ্গে আবেগের বন্ধনকে নতুন করে উদযাপনের একটি উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

দিন শেষে সমুদ্রের নীল জল পেছনে ফেলে লন্ডনের উদ্দেশে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। ফেরার পথেও গান, আড্ডা, খাবার ও স্মৃতিচারণে মুখর ছিল কোচ। অংশগ্রহণকারীরা আয়োজকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে এবারের বনভোজনকে একটি সফল ও স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে অভিহিত করেন।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত