প্রকাশ :: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৪২

লন্ডনে “অভ্যুত্থান থেকে অনিশ্চয়তা: আগস্ট ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট” শীর্ষক সেমিনার


সংযুক্ত ছবি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : পাঁচটি আন্তর্জাতিক ও ইউরোপীয় সংস্থা যৌথভাবে ২১ জুন যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে “অভ্যুত্থান থেকে অনিশ্চয়তা: আগস্ট ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট” শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের সাংবাদিক ও লেখক সৈয়দ বদরুল আহসান, ব্যারিস্টার তানিয়া আমির এবং যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক এ বি এম নাসিরসহ বিশিষ্ট বক্তারা একত্রিত হন। ড. নাসির জুলাই-আগস্ট ২০২৪ আন্দোলনের পেছনের সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা তুলে ধরে সেমিনারটি উদ্বোধন করেন এবং যুক্তি দেন যে, ২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে উদ্ভূত একটি ব্যর্থ ‘মাইনাস-টু’ কৌশলের ফল হলো ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতি। তিনি উল্লেখ করেন যে, মুহাম্মদ ইউনুস, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যম ইসলামপন্থী ও বিদেশি শক্তিগুলোর সাথে মিলে বাংলাদেশকে নতুন রূপ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল, যা পরবর্তীকালে দেশের মুক্তিযুদ্ধের আখ্যান এবং ১৯৭১-পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে মুছে ফেলার লক্ষ্যে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শুদ্ধি অভিযান এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে। ড. নাসিরের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সরকারবিরোধী সুশীল সমাজ নেটওয়ার্কগুলোর উত্থান, জামায়াতে-ইসলামী ও ধর্মনিরপেক্ষ সরকারবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে কথিত সমন্বয় এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংগঠিত গোষ্ঠীগুলোর দ্রুত রাজনৈতিক প্রাধান্য লাভ এর অন্যতম কারণ। নাসির আরও পর্যালোচনার দাবি রাখে এমন কয়েকটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন: অস্থিরতার সময় ৪৫০টিরও বেশি থানা ও নিরাপত্তা স্থাপনা ধ্বংস, মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে হামলা, সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গিদের পলায়নের সুযোগ করে দেওয়া কারাগার ভাঙা এবং মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে পূর্বে প্রান্তিক হয়ে পড়া ব্যক্তিদের পরবর্তীকালে রাজনৈতিক পুনর্বাসন। তিনি আরও যুক্তি দেন যে, এই আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে অপসারণের বাইরেও বিস্তৃত ছিল; এর উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে থাকা ঐতিহাসিক আখ্যানকে সংশোধন করা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা থেকে উদ্ভূত রাজনৈতিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করা। ড. নাসির ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং পরিণতি নিয়ে একটি স্বাধীন ঐতিহাসিক ও প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তেরও আহ্বান জানান। ব্যারিস্টার তানিয়া আমির মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রাখতে ধারাবাহিক মুক্তিপন্থী সরকারগুলোর অনুভূত ব্যর্থতার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি উগ্রপন্থী শক্তিগুলোকে মোকাবিলার সমালোচনা করে যুক্তি দেন যে, নীতিগত ব্যর্থতার কারণে চরমপন্থী উপাদানগুলো শক্তপোক্ত হয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তের আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সৈয়দ বদরুল আহসান চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের দীর্ঘ ইতিহাসের ওপর আলোকপাত করেন, যা পর্যায়ক্রমে গণতন্ত্রের পাশাপাশি বাংলাদেশের মৌলিক নীতিগুলোকেও দুর্বল করে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এটা আশ্চর্যজনক যে, ১৯৭৫ সালের আগস্টে কিংবা ২০২৪ সালের আগস্টেও দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারগুলোকে উৎখাত করার জন্য দেশবিরোধী শক্তিগুলোর ঘৃণ্য প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবগত ছিল না। ইউনুস শাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি গুরুতর অপরাধ ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার জন্য দোষী এবং ভবিষ্যৎ বাঙালি জাতীয়তাবাদী সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, এই শাসনের অংশ বা এর সঙ্গে যুক্ত সকলকে আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১-এর চেতনা পুনরুদ্ধারের জন্য আওয়ামী লীগকে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুচিন্তিত কৌশল তৈরি করতে হবে। তিনি যুক্তি দেন যে, দলে দ্বিতীয় স্তরের নেতৃত্ব, যা বঙ্গবন্ধু রেখে গিয়েছিলেন এবং যা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিল, তার অনুরূপ একটি নেতৃত্ব এখন অপরিহার্য। অনুষ্টানটি আয়োজন করে ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, ব্রাসেলসের সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, জার্মানির এক-বিন, তুর্কেলের আর্থ সিভিলাইজেসন এবং ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস এলায়েন্স।