ইউডব্লিউএস লন্ডন ক্যাম্পাসে বিডিএসইউএল -এর নতুন কমিটির সভা চলাকালীন -
জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি, লন্ডন: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন ও নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব স্কটল্যান্ড (UWS)-এর লন্ডন ক্যাম্পাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন- বিডিএসইউএল (BDSUL)-এর নতুন নির্বাহী কমিটির সভা হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি আবদুর রহিমের সভাপতিত্বে নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাধারণ সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, ক্যাম্পাসজীবন, ক্যারিয়ার ও কমিউনিটি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিডিএসইউএল (BDSUL)-এর সাধারণ সম্পাদক হিমালয় রাজপাল, ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহিদুল ইসলাম, ইফজাল আহমেদ, মেহেদি হাসান ও মিনহাজ খান। এছাড়া ভলান্টিয়ার ম্যানেজমেন্ট সেক্রেটারি অর্কো, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সেক্রেটারি কবিতা তুন উম্মি ঐশী, কালচারাল সেক্রেটারি জুই তালুকদার, জয়েন্ট সেক্রেটারি হালিমা তুস সাদিয়া বিদিশা ও সোহানা কবিরসহ অন্যান্য নির্বাহী ও সাধারণ সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়া UWS Students’ Union-এর লন্ডন ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি নাথান প্রাইস এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় শিক্ষার্থীরা - অভিজ্ঞতা বিনিময় করে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আসা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এবং নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বলেন। এ সময় আবাসন খোঁজা, চাকরি, একাকীত্ব, পড়াশোনার চাপ এবং নতুন দেশে নিজের অবস্থান তৈরি করার মতো নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জের কথা উঠে আসে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে নতুন সুযোগ পাওয়া, বন্ধুত্ব তৈরি, পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতা এবং ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও সদস্যরা তুলে ধরেন। সভাপতির বক্তব্যে আবদুর রহিম বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সংগঠনের ভূমিকা শুধু সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। পারস্পরিক সহযোগিতা, মানসিক শক্তি, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতেও এ ধরনের সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা ও পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার আহ্বান জানান। আবদুর রহিম আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে আসার পর অনেক শিক্ষার্থী জীবিকা নির্বাহের জন্য সাময়িকভাবে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হন। বিশেষ করে কিছু নিম্নমজুরির কর্মক্ষেত্রে শিক্ষিত তরুণদের কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে এসব অভিজ্ঞতাকে স্থায়ী গন্তব্য হিসেবে না দেখে সুযোগ অনুযায়ী শিক্ষা, দক্ষতা ও পেশাগত অবস্থান উন্নয়নের চেষ্টা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে প্রত্যেক মানুষের প্রতি সম্মানজনক ও ইতিবাচক আচরণের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।